সরকারি দমন-পীড়নের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বাঁচার সংগ্রাম, ন্যায্য মজুরির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল
মাস শেষে পাওয়া মজুরির অর্ধেকই চলে যায় ঘর ভাড়ায়। বাকি টাকায় কোনো রকমে চলে ভাত-ডাল-তেল, সন্তানের লেখাপড়া আর অসুস্থ মায়ের ওষুধ। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের রপ্তানি আয় সচল থাকে, তারাই আজ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অবৈধ বিএনপি সরকারের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হলেও শ্রমিকদের মজুরি স্থবির হয়ে আছে। শাসকগোষ্ঠী আরও ধনী হচ্ছে, আর শ্রমিকের থালা থাকছে খালি। এই প্রেক্ষাপটে ৩০,০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি কোনোভাবেই অতিরিক্ত নয়, বরং অবৈধ বিএনপি সরকারের নিপীড়নের মধ্যে বেঁচে থাকার ন্যূনতম শর্ত।
রাস্তায় ক্ষুধার্ত শ্রমিক, চলছে অবরোধ-বিক্ষোভ
এই ক্ষুধার্ত মানুষগুলোই এখন রাস্তায় নেমেছে। গত ১ নভেম্বর টানা তৃতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তার আগের দিন গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের কারণে কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের দাবি না শুনে অবৈধ বিএনপি সরকার কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে এবং গাজীপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করে জবাব দিয়েছে। বিক্ষোভের কারণে মিরপুরে পাঁচটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এবং আশুলিয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
মাসের পর মাস ধরে শ্রমিকরা তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছেন — ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা, কালো তালিকাভুক্তি বা ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ করা এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ। কিন্তু অবৈধ বিএনপি সরকার মালিকপক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তরায় সংঘর্ষে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। অধিকার চাইতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এই ন্যায্য আন্দোলনের পেছনে “বাইরের উসকানি” খুঁজছে। কিন্তু শ্রমিকদের বক্তব্য, তারা কোনো তকমা চান না, চান ন্যায্য মজুরি।
বন্ধ হচ্ছে কারখানা, বেকার লাখো শ্রমিক
এদিকে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (JMBF) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৪৫৭টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার ফলে ২ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক বেকার হয়েছেন। সর্বশেষ প্যাসিফিক জিন্সের একটি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যেখানে কর্মরত ৫,৫০০ শ্রমিক চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এ বিষয়ে অবৈধ বিএনপি সরকার উদাসীন ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার শাসনামলে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত মজুরি পুনর্মূল্যায়ন করা হতো এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে অবৈধ বিএনপি সরকারের হাতে লাঠি আর বন্দুক ছাড়া কিছুই নেই।
শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনে লাঠি, গ্রেনেড ও কালো তালিকাভুক্তির মাধ্যমে দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই শ্রমিকদের থালায় খাবার ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিই এখন মুখ্য। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক পরিবার আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে, তারা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।


