নিজস্বপ্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে (বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানা অঞ্চল) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনাব আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এর সকল উন্নয়নকাজ :

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ ৫ আসনে বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানা অঞ্চল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনাব আব্দুল লতিফ বিশ্বাস দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য ১৯৯৬ ২০০১ এবং ২০০৮ ২০১৪, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ২০০৯ ২০১৩ এবং পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান ২০১৪ ২০২৩ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো জনপ্রতিনিধির পুরো মেয়াদের সব প্রকল্পের একক বা সমন্বিত আর্থিক তালিকা একটি নির্দিষ্ট গেজেটে সংরক্ষিত থাকে না; কারণ কাজগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর পাউবো, এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়। সরকারি দপ্তরের প্রকল্প তথ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মেয়াদে বাস্তবায়িত প্রধান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং খাতওয়ারি বরাদ্দের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রধান উন্নয়ন প্রকল্প ও খাতওয়ারি বরাদ্দের তালিকা

১। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত বেলকুচি ও চৌহালী
প্রধান কাজ: বেলকুচির আজগড়ায় প্রায় ৭ একর জমির ওপর মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, সিরাজগঞ্জ স্থাপন শিক্ষা কার্যক্রম, ছাত্রাবাস, পুকুর ও গবেষণাগার নির্মাণ।
বাস্তবায়নকারী: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০০৯ ২০১৩ মেয়াদে অনুমোদিত; পরবর্তীতে উদ্বোধন
বরাদ্দ: তিনটি ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৫৬.৭০ ৯০ কোটি টাকা; সিরাজগঞ্জ অংশে ব্যয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

২। প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য হ্যাচারি উন্নয়ন বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর
প্রধান কাজ: উপজেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র আধুনিকায়ন, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন, যমুনা নদী ও জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসন প্রকল্প।
বাস্তবায়নকারী: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ২০০৯ ২০১৩
বরাদ্দ: বিভিন্ন অর্থবছরে প্রকল্প ও রাজস্ব খাত থেকে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা।

৩। নদী ভাঙন রোধ ও তীর সংরক্ষণ বেলকুচি ও এনায়েতপুর
প্রধান কাজ: বেলকুচির রাজাপুর, দৌলতপুর, বেলকুচি সদর এবং এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে পাঁচিল ও খুকনী এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্প।
বাস্তবায়নকারী: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো ১৯৯৬ ২০০১ ও ২০০৯ ২০১৩
বরাদ্দ: একাধিক ধাপে জরুরি ও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার অধিক।

৪। চৌহালী উপজেলা রক্ষা বাঁধ চৌহালী
প্রধান কাজ: যমুনার ভাঙন থেকে চৌহালী উপজেলা সদর ও সংলগ্ন ইউনিয়নগুলো রক্ষায় তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ।
বাস্তবায়নকারী: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো ২০০৯ ২০১৪ ও পরবর্তী ধারাবাহিক প্রকল্প
বরাদ্দ: চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে অনুমোদিত বরাদ্দ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা ও জরুরি মেরামতে অতিরিক্ত ১০ ১৫ কোটি টাকা।

৫। প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো এনায়েতপুর ও বেলকুচি
প্রধান কাজ: ২০০০ সালে এনায়েতপুর থানা প্রতিষ্ঠা ও ভবন নির্মাণ, এনায়েতপুর কাপড়ের হাট স্থাপন ও উন্নয়ন, বেলকুচি উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ।
বাস্তবায়নকারী: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাউবো, এলজিইডি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৯৯৬ ২০০১ ও ২০০৯ ২০১৩
বরাদ্দ: থানা, হাট ও উপজেলা অবকাঠামো এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।

৬। গ্রামীণ যোগাযোগ ও সেতু কালভার্ট বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর
প্রধান কাজ: বেলকুচি এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন, মুকন্দগাঁতী, তামাই, সমেশপুর, ধুকুরিয়াবেড়া ও সাদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তা পাকাকরণ এবং ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ।
বাস্তবায়নকারী: এলজিইডি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় টিআর কাবিখা ২০০৯ ২০১৩
বরাদ্দ: ৫ বছরের মেয়াদে বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো ও সড়ক প্রকল্পে আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।

৭। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাডেমিক ভবন বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর
প্রধান কাজ: বেলকুচি ডিগ্রি কলেজ পরবর্তীতে সরকারি, দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ, সোহাগপুর ও এনায়েতপুরের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ।
বাস্তবায়নকারী: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০০৯ ২০১৩
বরাদ্দ: নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার খাতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা।

৮। ধর্মীয়, সামাজিক ও ক্ষুদ্র অবকাঠামো বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর
প্রধান কাজ: মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান সংস্কার, গভীর নলকূপ স্থাপন, যাত্রীছাউনি, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো সংস্কার এবং দুস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান।
বাস্তবায়নকারী: সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ এডিপি ও রাজস্ব বাজেট ২০১৪ ২০২৩, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালীন
বরাদ্দ: প্রতি অর্থবছরে গড়ে ৩ ৪ কোটি টাকা করে প্রায় ৯ বছরে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ কোটি টাকা।

অঞ্চলভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কাজের সারসংক্ষেপ

১। বেলকুচি উপজেলা
কারিগরি ও মৎস্য শিক্ষা: মন্ত্রী থাকাকালীন বেলকুচির আজগড়ায় মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু করা তাঁর অন্যতম বড় প্রকল্প, যা থেকে প্রতি সেমিস্টারে ডিপ্লোমা ইন ফিশারিজ কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
তাঁত ও গ্রামীণ অর্থনীতি: বেলকুচির তাঁতপ্রধান গ্রামগুলোর তামাই, সমেশপুর, মুকন্দগাঁতী, চালা সাথে উপজেলা সদরের সংযোগ সড়ক পাকাকরণ এবং শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রাথমিক পর্যায়ের সংযোগ সম্প্রসারণ।
পৌর ও উপজেলা অবকাঠামো: বেলকুচি উপজেলা পরিষদ চত্বরের আধুনিকায়ন, অডিটোরিয়াম সংস্কার এবং বেলকুচি পৌর এলাকার যেখানে তাঁর সহধর্মিণী বেগম আশানূর বিশ্বাসও এক মেয়াদে মেয়র ছিলেন ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়ন।

২। এনায়েতপুর থানা অঞ্চল
প্রশাসনিক উন্নীতকরণ: ১৯৯৬ ২০০১ মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাকালীন বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন সমন্বয় করে ২০০০ সালে এনায়েতপুরকে স্বতন্ত্র থানায় উন্নীত করা হয়।
এনায়েতপুর কাপড়ের হাট: এ অঞ্চলের তাঁতিদের উৎপাদিত কাপড় বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা ব্যবহারের অনুমতি সাপেক্ষে এনায়েতপুর কাপড়ের হাট স্থাপন ও শেড নির্মাণ।
যমুনার ভাঙন রোধ: এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম, আড়কান্দি ও খুকনী এলাকায় নদী ভাঙন রোধে একাধিক জরুরি জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক স্থাপন প্রকল্প।

৩। চৌহালী উপজেলা
ভাঙনকবলিত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ: চৌহালী উপজেলার বড় অংশ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় উপজেলা সদর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভাঙনকবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনগুলো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর ও পুনর্নির্মাণ।
চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন: চরাঞ্চলে সোলার প্যানেল বিতরণ টিআর কাবিখা কর্মসূচির আওতায়, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চরাঞ্চলের খামারিদের গবাদিপশু পালন ও মৎস্য চাষে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান।

২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ ৫ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মরহুম আব্দুল মজিদ মণ্ডল ২০১৪ ২০১৮ এবং আব্দুল মোমিন মণ্ডল ২০১৮ ২০২৪। ফলে এই দশকে জাতীয় সংসদের টিআর, কাবিখা ও এমপি কোটার বরাদ্দ তাঁদের মাধ্যমে এবং জেলা পরিষদের বরাদ্দ আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *