“ছাত্র-শ্রমিক-জনতা, গড়ে তোল একতা” – শ্রমিক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ
“ছাত্র-শ্রমিক-জনতা, গড়ে তোল একতা!
শ্রমিক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ
রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ”
কালো হুডি পরা তরুণের পেছনে লাল পতাকা হাতে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে থাকা জনতার অবয়ব এবং লাল-কালো রঙের ব্যবহার পোস্টারটিকে দিয়েছে এক প্রতিবাদী ও বিপ্লবী আবেদন।
এই একটি ছবি যেন হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যে শ্রমিক, তাদের অস্তিত্ব আজ নানা সংকটে। কখনো মজুরি বৈষম্য, কখনো কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, কখনো বা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া— শ্রমিক সমাজ আজও তার প্রাপ্য সম্মান থেকে অনেক দূরে।
পোস্টারে ব্যবহৃত স্লোগান “শ্রমিক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ” – এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের বাস্তবতা। কল-কারখানা, কৃষি খামার, নির্মাণ সাইট থেকে শুরু করে প্রবাসে দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা— প্রতিটি জায়গায় শ্রমিকের ঘামেই গড়ে উঠছে বাংলাদেশ। সেই শ্রমিক যদি না বাঁচে, তার পরিবার যদি না বাঁচে, তবে দেশের উন্নয়নের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।
এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে “ছাত্র-শ্রমিক-জনতা, গড়ে তোল একতা” এই ঐতিহাসিক আহ্বান। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান— প্রতিটি বাঁকে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যই নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। এবার সেই ঐক্যের ডাক এসেছে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার জন্য।
সচেতন মহলের মতে, এই পোস্টারটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের নয়, বরং সময়ের দাবির প্রতীক। এটি মনে করিয়ে দেয়, দেশকে রুখে দাঁড়াতে হলে, দেশকে বাঁচাতে হলে সবার আগে বাঁচাতে হবে দেশের শ্রমিককে। তার ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার এই সম্মিলিত জাগরণই পারে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।




