রাজনীতিতে বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে কোনো রক্তচক্ষু বা কৃত্রিম বাধা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি এবং দেশের সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারেনি। সম্প্রতি সামনে আসা তাঁর দৃঢ় বার্তা—”ওঁর বাবাও আমার দেশে ফেরা আটকাতে পারেনি, ছেলেও পারবে না”—কেবল একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রত্যয় নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নির্ভীক নেত্রীর দীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার পর তৎকালীন শাসকেরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শকে চিরতরে মুছে ফেলতে। সে সময়ও বিদেশে থাকা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিতে নানা বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো হুমকিই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি বাংলার মাটিতে পা রেখেছিলেন এবং দীর্ঘ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়েও। তৎকালীন অনির্বাচিত প্রশাসন তাঁর দেশে ফেরার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে নির্দেশ দিয়েছিল যাতে তাঁকে বিমানে না তোলা হয়। মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি সত্ত্বেও তিনি একবিন্দু পিছপা হননি। সব নিষেধাজ্ঞা গুঁড়িয়ে দিয়ে তিনি বীরদর্পে দেশে ফিরেছিলেন এবং পরবর্তীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বারবার ভেবেছে কূটকৌশল, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এ দেশের মাটি ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী দল। শেখ হাসিনা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি নন, তিনি এ দেশের গণমানুষের অস্তিত্বের প্রতীক। তৃণমূলের কোটি কর্মীর শক্তিই তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তনের এই প্রত্যয় মূলত কোনো পদ-পদবির মোহ নয়, বরং দেশ ও নেতাকর্মীদের প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। অতীতে যেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা হুমকি তাঁকে থামাতে পারেনি, তেমনি এবারও দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা এবং তৃণমূলের অটল আস্থাই তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথকে প্রশস্ত করবে। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের নেত্রীকে কোনো সীমানা বা প্রতিকূলতাই চিরকাল আটকে রাখতে পারেনি।




